রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:১২ অপরাহ্ন
ফাং-ওয়াংয়ের স্যাটেলাইট ইমেজ। ছবি: রয়টার্স আন্তর্জাতিক ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: ফিলিপাইনের দিকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ফাং-ওয়াং প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে সুপার টাইফুনে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে প্রবল বর্ষণ, ধ্বংসাত্মক ঝোড়ো হাওয়া এবং জলোচ্ছ্বাসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসের চেষ্টায় ইতোমধ্যে লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগ বলেছে, রোববার রাতে লুজনের অরোরা প্রদেশে আঘাত হানতে পারে ফাং-ওয়াং। দক্ষিণ-পূর্ব লুজনের কাটানডুয়ানেস, কামারিনেস নরতে ও কামারিনেস সুরের উপকূলীয় এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা পাঁচ নম্বর বিপদসংকেত জারি করা হয়েছে। রাজধানী ম্যানিলা ও আশপাশের এলাকায় তিন নম্বর বিপদ সংকেত কার্যকর রয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিএস-সিবিএন নিউজের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কাটানডুয়ানেস প্রদেশে প্রবল ঝড়ো হাওয়ায় গাছের ডাল দুলছে, প্রবল বৃষ্টিতে এলাকা ভেসে যাচ্ছে এবং ঝড়ের ভয়াবহ শব্দ শোনা যাচ্ছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্যোগের সতর্কতার জন্য তিন শতাধিক অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সুপার টাইফুন ফাং-ওয়াংয়ের বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার আর দমকা হাওয়া ঘণ্টায় ২৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ।
পূর্ব ভিসায়াসের বেশ কিছু এলাকায় ইতোমধ্যেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটেছে। ফিলিপাইন কোস্টগার্ডের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, কামারিনেস সুরে সরিয়ে নেওয়া লোকজন ব্যাগ ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে নৌকা থেকে ট্রাকে উঠছেন।
ফাং-ওয়াংয়ের ঠিক কয়েকদিন আগেই ফিলিপাইনকে আঘাত হেনেছিল টাইফুন ‘কালমেগি’। ওই ঝড় দেশব্যাপী অন্তত ২০৪ জনের প্রাণহানি এবং দেশজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। পরবর্তীতে এটি ভিয়েতনামে আঘাত হানলে সেখানে আরও পাঁচজন মারা যান ও উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়।